রোববার ১৯শে এপ্রিল দিনভর গানের সুর, বন্ধুসুলভ আড্ডা আর পহেলা বৈশাখের আমেজে ভাসল স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরার একটি মিলনায়তন। স্কটল্যান্ডভিত্তিক লোকসংগীত সংস্থা ‘ফোক পাগলার বর্ষপূর্তি ও বাংলা নববর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি ছিল এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।
জমকালো এই আয়োজনের শুরুটা হয় দলীয়ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। সংস্থাটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও স্কটল্যান্ডে বাংলা লোকসংগীত চর্চার পুরোধা ব্যক্তিত্ব আজিম মাহমুদ সুমন উদ্বোধনী বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান এবং নিজেদের পরিচিতি উপস্থাপন করেন।
এরপর সমবেত কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো গানের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে শিল্পীরা পরিবেশন করেন: বৈশাখ মাসে আইসো বন্ধু বৈশাখী গান গাইয়া, আমার গরুর গাড়ীতে বউ সাজিয়ে, ভাল হয়ে যাওরে বন্ধু, যেজন প্রেমের ভাব জানে না, রাঙামাটির রঙে চোখ জুড়ালো, বিনয় করি গো প্রিয়া, গুরু আমার মনের ময়লা যাবে কেমনে। এছাড়াও ছিল ছোটদের মন জয় করে নেয়া দারুণ সব নৃত্য ও জাদু পরিবেশনা।

শুধু গান-বাজনা নয়, বাড়ির মতো চমকপ্রদ আপ্যায়ন ছিল অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে। পেটপুরে খাওয়াদাওয়ারও ব্যবস্থা ছিল চমৎকার। দুপুরের খাবারের আয়োজন যেন বাঙালির ষোলোকলা পূর্ণ করেছিল। মেনুতে ছিল—রসনাবিলাসী ইলিশ ভাজা, সাদা ভাত, নানান পদের ভর্তা, ডাল, সুস্বাদু বিরিয়ানি, মিষ্টি ও ফিরনি। সঙ্গে ছিল সফট ড্রিংকস, চা ও কফি। এসব পেয়ে খুশি অতিথিরা ফোক পাগলার সব শিল্পী-কলাকুশলীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: হগম্যানী উৎসব স্কটল্যান্ডে যেভাবে উদযাপন করা হয়
অনুষ্ঠানে অভ্যাগত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনেক গুণীজন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন: সাবেক এমএসপি ফয়ছল আহমদ চৌধুরী, স্কটল্যান্ড বিএনপির নেতা জাকির মোড়ল, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট শাহনূর চৌধুরী, চ্যানেল আই’য়ের সাংবাদিক হুমায়ুন কবির, থিসল শাপলা কালচারাল সংস্থার সভাপতি ফখরুল মাজুম ইসলাম, স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ওয়ার্কাস পার্টির প্রার্থী আবু মিরন, সাংবাদিক মিজান রহমান, ফ্রিল্যান্স লেখক বদরুল হুসেইন বাবু, স্কটল্যান্ড বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক খান এলাহী মনজুর, সাংবাদিক ফরহাদ রেজা, তুহিন মাহমুদ, রশিদ আহমদ প্রমুখ।
অনুষ্টানের অংশবিশেষ দেখুন ফেসবুকে: https://www.facebook.com/share/v/18cNa4R4Lw
অনুষ্ঠানে আজিম মাহমুদ সুমন তাঁর লক্ষ্যের কথা স্পষ্ট করে বলেন: “আমরা মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই। ফোক পাগলার মূল লক্ষ্য—বিদেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এবং বিদেশিদের কাছে আমাদের জন্মভূমির সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা। এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে চলা।”
বর্ষবরণে এডিনবরায় গান, আড্ডা আর ইলিশ ভাজার মেলা – সব মিলিয়ে দিনটি যেন সবার মনে এক স্মৃতির উৎসব হয়ে থাকবে। আরও বহু বছর এভাবে সুর আর মিলন মেলার মাধ্যমে বাঁচুক ‘ফোক পাগলা’র হাত ধরে বাংলার সংস্কৃতি বিদেশের মাটিতে।