UK Council Tax কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

UK Council Tax কী, এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেই দেন এক লাইনে  “এটা তো বাসাবাড়ির উপর বসানো একটা কর, মাস শেষে বিল আসে, দিয়ে দিলেই হলো।” বাস্তবতা কিন্তু এতটা সরল নয়। এই করব্যবস্থার পেছনে আছে জটিল ব্যান্ড-সিস্টেম, একজন বনাম দুইজন বাসিন্দার হিসাব-নিকাশ, আর ১৯৯১ সালের এক মূল্যায়ন যা আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা বা কাজের সূত্রে আসা অনেকেই প্রথম কয়েক মাস এই বিল দেখে বিভ্রান্ত হন  কেন প্রতিবেশীর বাড়ি একই সাইজের হয়েও কম বিল আসছে, কিংবা একা থাকলে ছাড় পাওয়া যায় কিনা, এসব প্রশ্ন খুবই সাধারণ। এই আর্টিকেলে ডাটা, তুলনামূলক টেবিল আর নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দিয়ে পুরো বিষয়টা ভেঙে দেখানো হলো।

UK Council Tax কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

প্রতিটি বাড়িকে একটি নির্দিষ্ট ব্যান্ডে ফেলা হয়  ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে ১৯৯১ সালের ১ এপ্রিলের বাজারমূল্য অনুযায়ী, আর ওয়েলসে ২০০৩ সালের ১ এপ্রিলের ভিত্তিতে। মজার ব্যাপার হলো, আজ ২০২৬ সালেও ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের ব্যান্ড নির্ধারণ হচ্ছে সেই ৩৫ বছর আগের মূল্যায়ন দিয়েই  নতুন করে কোনো পূর্ণাঙ্গ revaluation হয়নি। ওয়েলসে অবশ্য ২০০৫ সালে একবার revaluation হয়েছিল, আর পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ revaluation নির্ধারিত আছে ২০২৮ সালে।

প্রতিটি লোকাল অথরিটি প্রতি বছর একটি Band D হার ঠিক করে  এটাই রেফারেন্স পয়েন্ট। বাকি সব ব্যান্ডের কর এই Band D-এর একটা নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ (নবমাংশ বা ninths-এ হিসাব করা) হিসেবে বের হয়। যেমন Band B মানে Band D-এর ৭/৯ অংশ, অর্থাৎ ৭৮%। নিচের টেবিলে তিন দেশের ব্যান্ড-ভ্যালু ও অনুপাত দেখানো হলো:

ব্যান্ড ইংল্যান্ড (১৯৯১ মূল্য) ওয়েলস (২০০৩ মূল্য) স্কটল্যান্ড (১৯৯১ মূল্য) Band D-এর %
A £৪০,০০০ পর্যন্ত £৪৪,০০০ পর্যন্ত £২৭,০০০ পর্যন্ত ৬৭%
B £৪০,০০১–£৫২,০০০ £৪৪,০০১–£৬৫,০০০ £২৭,০০১–£৩৫,০০০ ৭৮%
C £৫২,০০১–£৬৮,০০০ £৬৫,০০১–£৯১,০০০ £৩৫,০০১–£৪৫,০০০ ৮৯%
D £৬৮,০০১–£৮৮,০০০ £৯১,০০১–£১২৩,০০০ £৪৫,০০১–£৫৮,০০০ ১০০%
E £৮৮,০০১–£১২০,০০০ £১২৩,০০১–£১৬২,০০০ £৫৮,০০১–£৮০,০০০ ১২২% / ১৩১%*
F £১২০,০০১–£১৬০,০০০ £১৬২,০০১–£২২৩,০০০ £৮০,০০১–£১০৬,০০০ ১৪৪% / ১৬৩%*
G £১৬০,০০১–£৩২০,০০০ £২২৩,০০১–£৩২৪,০০০ £১০৬,০০১–£২১২,০০০ ১৬৭% / ১৯৬%*
H £৩২০,০০১ এর বেশি £৩২৪,০০১–£৪২৪,০০০ £২১২,০০১ এর বেশি ২০০% / ২৪৫%*
I — £৪২৪,০০১ এর বেশি — ২৩৩%

*২০১৭ সাল থেকে স্কটল্যান্ড E, F, G, H ব্যান্ডের অনুপাত বাড়িয়েছে, ফলে উঁচু ব্যান্ডের বাড়িগুলো আনুপাতিকভাবে বেশি কর দেয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, Band H-এর ওপরে কোনো সীমা নেই — একজন মাল্টি-মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ির মালিক একটি বেডসিটে বসবাসকারীর তুলনায় মাত্র তিনগুণ কর দেন, যদিও তার সম্পত্তির মূল্য হয়তো বিশগুণ বেশি। এই কারণেই সমালোচকরা একে “গরিবের জন্য নতুন পোল ট্যাক্স” বলে ডাকেন।

বর্তমান বাস্তব সংখ্যা দেখলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইংল্যান্ডে গড় Band D কাউন্সিল ট্যাক্স দাঁড়িয়েছে বছরে প্রায় £২,৩৯২  আগের বছরের তুলনায় ৪.৯% বেশি। ওয়েলসের গড় প্রায় £২,২৮৩, আর স্কটল্যান্ডে ২০২৫-২৬ সালের গড় Band D ছিল £১,৫৭৯। এলাকাভেদে পার্থক্যও বিশাল  লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থে Band D বছরে মাত্র প্রায় £১,০২৮, অথচ ডরসেটে সেটাই ছাড়িয়ে যায় £২,৭০০-এর বেশি।

ভ্যালুয়েশনের কাজ কে করে? ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এই দায়িত্ব Valuation Office Agency-র, স্কটল্যান্ডে করে Scottish Assessors। বাড়িতে বড় কোনো সংস্কার  যেমন এক্সটেনশন  হলে পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে, তবে মূল্য বাড়লে নতুন ব্যান্ড কার্যকর হয় শুধু বাড়ি বিক্রি বা হস্তান্তরের সময়।

কারা কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে বাধ্য? লায়াবিলিটি ও ব্যতিক্রম

সহজ কথায়, বাড়িতে যিনি থাকেন তিনিই সাধারণত দায়ী  মালিক নন। বাড়ি খালি থাকলে তখন মালিক দায়বদ্ধ হন। ব্যতিক্রম শুধু একটি জায়গায়: বাড়িটি যদি House in Multiple Occupation (HMO) হয়, তাহলে ভাড়াটে নয়, ল্যান্ডলর্ডকেই কর দিতে হয়।

দায়বদ্ধতার এই হায়ারার্কি একটু আজব লাগতে পারে, কিন্তু আসলে বেশ যৌক্তিক। আইনে অগ্রাধিকার-ক্রম এভাবে সাজানো:

  • বাড়ির মালিক-বাসিন্দা (Owner-occupier)
  • লিজহোল্ডার
  • স্ট্যাটুটরি বা কন্ট্রাক্চুয়াল টেন্যান্ট
  • যিনি লাইসেন্সধারী হিসেবে থাকেন
  • যেকোনো বাসিন্দা
  • সবশেষে — মালিক (যদি কেউ না থাকে)

এখন প্রশ্ন হলো  সবাইকেই কি পুরো বিল গুনতে হয়? না। কিছু মানুষকে “disregarded person” হিসেবে গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়, মানে তারা ঘরে থাকলেও বাসিন্দার সংখ্যায় ধরা হয় না। এই তালিকায় আছেন:

  • ১৮ বছরের কম বয়সী যে কেউ
  • ফুল-টাইম স্টুডেন্ট (নির্দিষ্ট কোর্স ও সময়ের শর্তে)
  • স্কুল বা কলেজ থেকে সদ্য পাস করা ১৯ বছরের কম বয়সী কেউ
  • গুরুতর মানসিক প্রতিবন্ধী (severely mentally impaired) ব্যক্তি
  • দীর্ঘমেয়াদি হাসপাতাল রোগী বা কেয়ার হোমের বাসিন্দা
  • লিভ-ইন কেয়ারার
  • ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য
  • বন্দি (কারাগার-বাসিন্দা)

এখানেই আসে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটা  “একা থাকলে কত ছাড় পাওয়া যায়?” উত্তরটা পরিষ্কার: বাড়িতে যদি একজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা থাকেন, তাহলে পুরো বিল দিতে হয়। কিন্তু মাত্র একজন থাকলে, বা বাকিরা disregarded হলে, বিলের ওপর ২৫% Single Person Discount পাওয়া যায়  অর্থাৎ বাসিন্দাকে বিলের মাত্র ৭৫% দিতে হবে। বাড়ি সম্পূর্ণ খালি থাকলে (কোনো বাসিন্দাই নেই) সাধারণত ৫০% ছাড় প্রযোজ্য, যদি না কাউন্সিল ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

এর বাইরে সম্পূর্ণ ছাড়ের (exemption) কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণিও আছে  যেমন প্রতিটি বাসিন্দাই যদি ফুল-টাইম স্টুডেন্ট হন (Class N), অথবা বাড়ির সব বাসিন্দার বয়স ১৮-এর নিচে হয় (Class S), অথবা আগের বাসিন্দা মারা যাওয়ার পর প্রোবেট অপেক্ষমাণ থাকে (Class F1/F2)। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের সার্ভিস-প্রদত্ত আবাসনে Class O-এর আওতায় সম্পূর্ণ ছাড় পান  তার বদলে Ministry of Defence প্রতিটি কাউন্সিলকে সরাসরি অর্থবছরের শুরুতে Contributions in Lieu of Council Tax (CILOCT) নামে একটি জাতীয়ভাবে হিসাবকৃত অর্থ পরিশোধ করে।

আপনার ব্যান্ড কীভাবে চেক করবেন, আর ভুল ব্যান্ডে থাকলে কী করবেন

ব্যান্ড চেক করা আসলে বেশ সহজ  ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বাসিন্দারা Valuation Office Agency-র ওয়েবসাইটে পোস্টকোড দিয়ে সরাসরি নিজের ব্যান্ড দেখতে পারেন। স্কটল্যান্ডে একই কাজ করে Scottish Assessors Association-এর পোর্টাল। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার, কোনো ফি লাগে না।

এখানে একটা চমকপ্রদ তথ্য আছে যা অনেকেই জানেন না। ১৯৯১ সালের সেই প্রাথমিক ভ্যালুয়েশন অনেক ক্ষেত্রেই “second gear valuation” পদ্ধতিতে হয়েছিল  অর্থাৎ ভ্যালুয়াররা গাড়ি চালিয়ে বাড়ির সামনে দিয়ে যেতে যেতে বাইরে থেকে দেখে আন্দাজে ব্যান্ড বসিয়ে দিয়েছিলেন, ভেতরে ঢুকে দেখারও সময় ছিল না। ফলে লক্ষ লক্ষ বাড়ি ভুল ব্যান্ডে পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। বর্তমান শিল্প-বিশ্লেষকদের হিসাবে, ইংল্যান্ডের প্রায় প্রতি আটটি বাড়ির একটি অর্থাৎ প্রায় ছয় লাখেরও বেশি সম্পত্তি  এখনও ভুল ব্যান্ডে থাকতে পারে।

এই সমস্যা প্রথম বড় আকারে সামনে আসে ২০০৭ সালে, যখন ITV-র Tonight অনুষ্ঠানে দেখানো হয় কীভাবে মানি সেভিং এক্সপার্ট মার্টিন লুইসের তৈরি একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ ভুল ব্যান্ডের জন্য ফেরত টাকা পেয়েছিলেন। পরবর্তী পরিসংখ্যান বলছে, শুধু এক বছরেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৯৭,৫৬৩টি সম্পত্তির ব্যান্ড পুনর্মূল্যায়ন হয়, যার মধ্যে ৬৯,৬৯৫টির ব্যান্ড নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তাহলে appeal করবেন কীভাবে? প্রক্রিয়াটা মূলত তিন ধাপে:

  1. প্রতিবেশীর একই আকারের বাড়ির সাথে নিজের ব্যান্ড তুলনা করুন (VOA-র তথ্য পাবলিক)।
  2. ১৯৯১ সালের (ওয়েলসে ২০০৩) আনুমানিক মূল্য যাচাই করুন — বর্তমান মূল্য দিয়ে নয়।
  3. প্রমাণসহ VOA বা Scottish Assessors-এর কাছে ফরমাল চ্যালেঞ্জ জমা দিন।

একটা সতর্কতা মনে রাখা জরুরি  appeal ব্যর্থ হলে কোনো জরিমানা নেই, কিন্তু বিরল ক্ষেত্রে ব্যান্ড উল্টো বেড়েও যেতে পারে যদি দেখা যায় আপনার বাড়ি আসলে বেশি মূল্যবান ব্যান্ডে থাকা উচিত ছিল।

কাউন্সিল ট্যাক্স কমানোর আরও উপায়: রিডাকশন স্কিম, ডিসএবিলিটি ব্যান্ড ও সারচার্জ

Single Person Discount ছাড়াও আরও কিছু বৈধ পথ আছে যেখান দিয়ে বিল কমানো যায়। প্রতিবন্ধী বাসিন্দার জন্য বাড়িতে যদি বিশেষ অ্যাডাপ্টেশন থাকে। যেমন হুইলচেয়ার-উপযোগী রুম বা অতিরিক্ত বাথরুম  তাহলে লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বাড়িটিকে এক ব্যান্ড নিচে নামানো হয়। বাড়ি যদি ইতিমধ্যে সর্বনিম্ন Band A-তে থাকে, তাহলে সেটি চলে যায় বিশেষ Band Z-তে।

কম আয়ের মানুষদের জন্য ২০১৩ সাল থেকে চালু আছে Council Tax Reduction স্কিম (অনেক কাউন্সিল একে “Council Tax Support” নামে প্রচার করে)। প্রতিটি স্থানীয় কাউন্সিল নিজস্ব নিয়মে এই স্কিম চালায়, তাই এলাকাভেদে সুবিধার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। যারা Pension Credit-এর Guarantee Credit অংশ পান, তাদের জন্য আইনত ১০০% ছাড় বাধ্যতামূলক — অর্থাৎ বিল শূন্য।

উল্টো দিকটাও জানা দরকার — খালি বাড়ি বা সেকেন্ড হোমের ওপর এখন উচ্চহারে সারচার্জ বসানো হচ্ছে। ইংল্যান্ডে এক বছরের বেশি খালি থাকা বাড়িতে ১০০% পর্যন্ত সারচার্জ বসানো যায়, সেকেন্ড হোমেও একই হার প্রযোজ্য। স্কটল্যান্ডে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই সারচার্জের ওপরের সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে — অর্থাৎ কাউন্সিল চাইলে যেকোনো পরিমাণ সারচার্জ বসাতে পারে। ওয়েলসে তো ২০২৩ সাল থেকে সারচার্জ পৌঁছাতে পারে ৩০০% পর্যন্ত।

বকেয়া থাকলে কী হয়? কাউন্সিল ট্যাক্স আরিয়ার্স ও আদায় প্রক্রিয়া

কাউন্সিল ট্যাক্স না দেওয়াটা মোটেও সহজ ব্যাপার না । বাস্তবে এটি এড়িয়ে যাওয়া বা ফাঁকি দেওয়া সবচেয়ে কঠিন করগুলোর একটি, আর তাই আদায়ের হারও (৯৭%-এর বেশি) বেশ উঁচু। তবু বকেয়া পড়ে গেলে প্রক্রিয়াটা জানা জরুরি। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সাধারণ নিয়ম হলো, বকেয়ার ৬ বছরের মধ্যে কাউন্সিলকে একটি magistrates’ court থেকে liability order নিতে হয়। এই অর্ডার একবার পেয়ে গেলে সময়ের কোনো সীমা থাকে না  কাউন্সিল বছরের পর বছর পিছু ধাওয়া করতে পারে। এরপর কাউন্সিলের হাতে থাকে বেশ কড়া কিছু ক্ষমতা:

  • বেতন থেকে সরাসরি কর্তন (attachment of earnings)
  • বেলিফ পাঠিয়ে সম্পত্তি জব্দ
  • ইংল্যান্ডে (আর আগে ওয়েলসেও, ২০১৯ সাল পর্যন্ত) সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড

স্কটল্যান্ডে চিত্রটা একটু ভিন্ন। এখানে বিতর্ক করের নিয়ম নিয়ে নয়, বরং আদায়ের মেয়াদ নিয়ে  বকেয়া ২০ বছর পর্যন্ত ধাওয়া করা যায়, আর ওয়ারেন্ট ইস্যুর পর আরও ২০ বছর। অর্থাৎ কার্যত ৪০ বছর পর্যন্ত পুরনো বকেয়া তোলা সম্ভব। আর স্কটিশ আইনে বোঝাটা করদাতার ঘাড়েই  কর পরিশোধ হয়েছে, এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব করদাতার, কাউন্সিলের নয়। এত পুরনো রসিদ কে-ই বা রেখে দেয়! এই বকেয়ার সমস্যাটা শুধু সংখ্যার খেলা নয়। গৃহহীনতা ও আবাসন-অনিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করা গবেষকরা বলছেন, কাউন্সিল ট্যাক্স আরিয়ার্স প্রায়ই বৃহত্তর আর্থিক চাপের একটা লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় । যাদের গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাদের মধ্যে এই বকেয়ার হারও বেশি দেখা যায়।

কাউন্সিল ট্যাক্স নিয়ে সমালোচনা কী কী?

সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো  এই কর regressive, অর্থাৎ মানুষের আয় বা পরিশোধ-ক্ষমতার সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। ২০২১ সালে রাজনৈতিক বর্ণালীর বিভিন্ন প্রান্তের একাডেমিক ও থিংক-ট্যাংক একে “দরিদ্রদের ওপর বসানো ওয়েলথ ট্যাক্স” বলে অভিহিত করেছিলেন। তৎকালীন চ্যান্সেলর ঋষি সুনাককে পাঠানো এক চিঠিতে তারা বলেছিলেন, এই করের সবচেয়ে ভারী বোঝা পড়ে তরুণ, স্বল্প-আয়ের মানুষ আর দেশের কম সমৃদ্ধ অঞ্চলের বাসিন্দাদের ওপর যারা সাধারণত ছোট বাড়িতেই থাকেন।

লন্ডন নিয়ে আলাদা করে একটি সমালোচনা এসেছে Institute for Public Policy Research-এর একটি রিপোর্টে। তাদের প্রস্তাব ছিল কাউন্সিল ট্যাক্সকে লন্ডনের হাতে ন্যস্ত করা হোক, সেকেন্ড হোম ও খালি বাড়ির ছাড় তুলে দেওয়া হোক, আর পুরো ব্যবস্থাকে বদলে বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা প্রপার্টি ট্যাক্সে রূপান্তর করা হোক। বিকল্প হিসেবে স্কটিশ সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রস্তাব করেছে আয়-ভিত্তিক স্কেলে করারোপিত “Scottish Service Tax”। তবে এখনো পর্যন্ত এই ধরনের কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি । বর্তমান ব্যান্ড-সিস্টেমই এখনো বহাল আছে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

আমি একা থাকলে কত ছাড় পাব?

বিলের ২৫% ছাড় পাবেন  অর্থাৎ আপনাকে ৭৫% দিতে হবে, যদি বাড়িতে একজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক (disregarded নন এমন) বাসিন্দা না থাকেন।

বাড়ি খালি থাকলে কর দিতে হয় কি?

হ্যাঁ, সাধারণত ৫০% ছাড়ে। তবে এক বছরের বেশি খালি থাকলে অনেক কাউন্সিল উল্টো সারচার্জ বসায় — ইংল্যান্ডে ১০০% পর্যন্ত, ওয়েলসে ৩০০% পর্যন্ত।

ফুল-টাইম স্টুডেন্টদের কি কর দিতে হয়?

না। বাড়ির সব বাসিন্দা যদি ফুল-টাইম স্টুডেন্ট হন, তাহলে সেই বাড়ি সম্পূর্ণভাবে exempt (Class N)।

আমার ব্যান্ড ভুল মনে হলে কী করব?

বিনামূল্যে VOA (ইংল্যান্ড-ওয়েলস) বা Scottish Assessors (স্কটল্যান্ড)-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে পোস্টকোড দিয়ে যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে ফরমাল চ্যালেঞ্জ জমা দিন।

শেষ কথা বলতে গেলে, কাউন্সিল ট্যাক্স নিয়ে বিভ্রান্তি কাটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের ব্যান্ড, ছাড়ের যোগ্যতা আর স্থানীয় কাউন্সিলের নিয়ম। এই তিনটা জিনিস আগে থেকে যাচাই করে নেওয়া। প্রতিটি কাউন্সিলের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে এলাকাভিত্তিক হার ও ছাড়ের বিস্তারিত পাওয়া যায়, আর সন্দেহ হলে সরাসরি GOV.UK বা স্থানীয় কাউন্সিলে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।

প্রিয় পাঠক, সাগরপারে নোঙর ফেলুন!
আপনার ইমেইল ঠিকানা দিন। নতুন লেখা প্রকাশ হলেই পৌঁছে যাবে আপনার ইনবক্সে।

আপনার ইমেইল আমরা সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করি। চাইলে যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।