বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও চট্টগ্রামের যাত্রা অনেক সহজে পরিকল্পনা করা যায়। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন নম্বর ৭৮৫ ময়মনসিংহ থেকে রাত ৯:৪০ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৫:০০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। অন্যদিকে, ৭৮৬ নম্বর ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৯:১৫ মিনিটে ছেড়ে বিকাল ৪:২৫ মিনিটে ময়মনসিংহে পৌঁছায়। তবে উভয় ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার।

  • ময়মনসিংহ–চট্টগ্রাম: রাত ৯:৪০ থেকে ভোর ৫:০০
  • চট্টগ্রাম–ময়মনসিংহ: সকাল ৯:১৫ থেকে বিকাল ৪:২৫
  • সাপ্তাহিক বন্ধ: মঙ্গলবার
  • অনলাইন টিকিট: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট পোর্টাল

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী, ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামগামী ৭৮৫ নম্বর ট্রেন রাত ৯:৪০ মিনিটে ছাড়ে এবং ভোর ৫:০০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। একইভাবে, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী ৭৮৬ নম্বর ট্রেন সকাল ৯:১৫ মিনিটে ছেড়ে বিকাল ৪:২৫ মিনিটে ময়মনসিংহে পৌঁছে। ফলে, মঙ্গলবার দুই দিকের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

রুট ট্রেন নম্বর ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় সাপ্তাহিক বন্ধ
ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রাম ৭৮৫ রাত ৯:৪০ মিনিট ভোর ৫:০০ মিনিট মঙ্গলবার
চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ ৭৮৬ সকাল ৯:১৫ মিনিট বিকাল ৪:২৫ মিনিট মঙ্গলবার

রাতের ট্রেনটি ময়মনসিংহের যাত্রীদের জন্য ব্যবহারিক সুবিধা তৈরি করে। ভোরে চট্টগ্রামে পৌঁছে কর্মজীবী বা ব্যবসায়ী যাত্রীরা দিনের বড় অংশ কাজে লাগাতে পারেন। একইভাবে, চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৯:১৫ মিনিটে ছেড়ে বিকালের মধ্যে ময়মনসিংহে পৌঁছানো যায়। তাই দিনের কাজের সঙ্গে যাত্রা মিলিয়ে নিতে চাইলে এই সময়সূচী সুবিধাজনক হতে পারে।

সময় যাচাইয়ের সতর্কতা: প্রদত্ত যাত্রাবিরতির তালিকায় ময়মনসিংহের ছাড়ার সময় ৯:২০ মিনিট এবং জামালপুরের সময় ৮:১০ মিনিট দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মূল রুটের সময়সূচীতে ময়মনসিংহের ছাড়ার সময় ৯:৪০ মিনিট উল্লেখ আছে। তাই টিকিট কাটার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল পোর্টালে সর্বশেষ সময় মিলিয়ে নিন।

ট্রেনটির রুট ও পরিচিতি

বিজয় এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি আন্তঃনগর ট্রেন। এটি ময়মনসিংহ ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। বর্তমানে ট্রেনটির রুট জামালপুর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ময়মনসিংহ–চট্টগ্রাম করিডরে ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসও চলাচল করে।

বিজয় এক্সপ্রেস উদ্বোধন করা হয় ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর। ট্রেনটি প্রায় ৩৪৯ কিলোমিটার বা ২১৭ মাইল রেলপথ অতিক্রম করে। পুরো যাত্রায় প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে স্টপেজ, পরিচালনাগত পরিবর্তন ও রেলপথের পরিস্থিতির কারণে বাস্তব সময় কিছুটা বদলাতে পারে।

বর্তমানে ট্রেনটি সাদা চাইনিজ কোচে পরিচালিত হচ্ছে। মোট ১৪টি কোচের মধ্যে রয়েছে ৫টি শোভন চেয়ার, ৫টি এসি চেয়ার, ১টি এসি কেবিন, ১টি এসি খাবার গাড়ি, ১টি নন-এসি খাবার গাড়ি এবং ১টি পাওয়ার কার। এছাড়া, ট্রেন লোড ১৪/২৮ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

কোচ বিন্যাসের ব্যবহারিক অর্থ

দীর্ঘ যাত্রায় আসন বাছাইয়ের সময় শুধু ভাড়া নয়, যাত্রার সময়ও বিবেচনা করা দরকার। রাতের প্রায় ৯ ঘণ্টার যাত্রায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসন আরাম দিতে পারে। অন্যদিকে, সীমিত বাজেটের যাত্রীরা শোভন চেয়ার বেছে নিতে পারেন। খাবারের জন্য ট্রেনে এসি ও নন-এসি—দুই ধরনের খাবার গাড়ি রয়েছে। ফলে, যাত্রীরা আরাম ও খরচের মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ভারসাম্য করতে পারেন।

স্টেশনভিত্তিক ভাড়ার তালিকা

বিজয় এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনের শ্রেণি ও গন্তব্য অনুযায়ী আলাদা। নিচের তালিকায় প্রদত্ত স্টেশনভিত্তিক ভাড়া রাখা হয়েছে। তবে টিকিট কাটার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের সিস্টেমে দেখানো চূড়ান্ত ভাড়া মিলিয়ে নিন। কারণ ভাড়া, কর বা সেবা-সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।

স্টেশন এসি বি স্নিগ্ধা এসি এস শোভন চেয়ার
জামালপুর — ৬৫ টাকা — —
পিয়ারপুর — ৫০ টাকা — —
ময়মনসিংহ ২১৯ টাকা ১২৭ টাকা — —
আঠারবাড়ি — ১১৫ টাকা — —
গৌরীপুর — ২০২ টাকা — ১০৫ টাকা
কিশোরগঞ্জ ৫২৯ টাকা ২৯৪ টাকা — ১৫৫ টাকা
সরারচর — — — ১৮০ টাকা
ভৈরব — — — ২০০ টাকা
আখাউড়া — — — ২৫৫ টাকা
কুমিল্লা — — — ২৯৫ টাকা
লাকসাম — — — ৩২০ টাকা
ফেনী — — — ৩৫৫ টাকা
ভাটিয়ারী — — — ৪৩০ টাকা
চট্টগ্রাম ১,৪৭৮ টাকা ৮২৩ টাকা ৯৮৯ টাকা ৪৩০ টাকা

প্রদত্ত তালিকায় কিছু স্টেশনের নির্দিষ্ট শ্রেণির ভাড়া দেওয়া নেই। এর অর্থ ওই শ্রেণির টিকিট সব স্টেশন-জোড়ার জন্য প্রযোজ্য নয় বা তথ্যটি আলাদাভাবে দেখানো হয়নি। তাই কাউন্টার কিংবা অনলাইন বুকিংয়ের সময় যাত্রার শুরু ও গন্তব্য নির্বাচন করে ভাড়া যাচাই করাই নিরাপদ পদ্ধতি।

জামালপুর থেকে চট্টগ্রামের ভাড়া

জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রায় প্রদত্ত ভাড়া হলো এসি বি ১,৪৭৮ টাকা, এসি এস ৯৮৯ টাকা, স্নিগ্ধা ৮২৩ টাকা এবং শোভন চেয়ার ৪৩০ টাকা। একই রুটে জামালপুর থেকে ট্রেনটি রাত ৮:১০ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে ভোর ৫:০০ মিনিটে পৌঁছায়।

গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে সময় ও ভাড়া

বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রাপথে ফেনী, লাকসাম, কুমিল্লা ও কিশোরগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বাজেট-সচেতন যাত্রীরা অনেক সময় পুরো রুটের বদলে কাছের স্টেশন পর্যন্ত টিকিট কাটেন। সেক্ষেত্রে, গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া ও পৌঁছানোর সময় আগে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

স্টেশন ময়মনসিংহ থেকে পৌঁছানোর সময় চট্টগ্রাম থেকে পৌঁছানোর সময় প্রদত্ত ভাড়া
কিশোরগঞ্জ রাত ১১:২৫ বিকাল ২:২৭ এসি বি ৩৪০, স্নিগ্ধা ১৯০, শোভন চেয়ার ১০০ টাকা
কুমিল্লা রাত ২:১৩ সকাল ১১:৪২ স্নিগ্ধা ৫১৫, শোভন চেয়ার ২৫০ টাকা
লাকসাম রাত ২:৩৭ সকাল ১১:১৮ স্নিগ্ধা ৫১৮, শোভন চেয়ার ২৭০ টাকা
ফেনী রাত ৩:২০ সকাল ১০:৩৯ স্নিগ্ধা ৫০৫, শোভন চেয়ার ৩০৫ টাকা

উপরের সব যাত্রাবিরতির ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। যেমন, ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জে যেতে নির্ধারিত পৌঁছানোর সময় রাত ১১:২৫ এবং চট্টগ্রাম থেকে কিশোরগঞ্জে পৌঁছানোর সময় বিকাল ২:২৭। একইভাবে, কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীর সময়ও রুটভেদে আলাদা।

যাত্রাবিরতির পূর্ণ তালিকা

জামালপুর থেকে চট্টগ্রাম রুটে বিজয় এক্সপ্রেসের উল্লেখিত স্টপেজগুলো নিচে দেওয়া হলো। প্রদত্ত তালিকায় ১০টি স্টেশনের কথা বলা হলেও টেবিলে জামালপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মোট ১৪টি নামসহ সময় দেখানো হয়েছে। তাই যাত্রীদের টিকিটে নির্দিষ্ট স্টপেজ ও সময় পরীক্ষা করা উচিত।

স্টেশন জামালপুর থেকে চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর
জামালপুর রাত ৮:১০ সন্ধ্যা ৬:১০
পিয়ারপুর রাত ৮:৪৩ বিকাল ৫:১০
ময়মনসিংহ রাত ৯:২০ বিকাল ৪:২৫
আঠারবাড়ি রাত ১০:৫০ বিকাল ৩:০৫
গৌরীপুর রাত ১০:০৩ বিকাল ৩:৩২
কিশোরগঞ্জ রাত ১১:২৫ বিকাল ২:২৭
সরারচর রাত ১২:০৫ বিকাল ১:৪৬
ভৈরব বাজার রাত ১২:৩৭ বিকাল ১:১২
আখাউড়া রাত ১:২৫ দুপুর ১২:৩৫
কুমিল্লা রাত ২:১৩ সকাল ১১:৪২
লাকসাম রাত ২:৩৭ সকাল ১১:১৮
ফেনী রাত ৩:২০ সকাল ১০:৩৯
ভাটিয়ারী ভোর ৪:৩০ সকাল ৯:১৯
চট্টগ্রাম ভোর ৫:০০ সকাল ৯:১৫

টেবিলের গৌরীপুরের সময় আঠারবাড়ির পরের সময়ের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মেলে না। এমন অসামঞ্জস্য থাকলে পুরনো বা ভিন্ন সংস্করণের সময়সূচী ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং, যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার, টিকিটের তথ্য ও বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট সেবা থেকে চূড়ান্ত তথ্য যাচাই করুন।

অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের নিয়ম

বিজয় এক্সপ্রেসের অনলাইন টিকিট বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত ই-টিকিট পোর্টাল থেকে কেনা যায়। নির্ধারিত তারিখ, রুট ও আসনের শ্রেণি নির্বাচন করার পর যাত্রীর তথ্য দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়। তাই ভুয়া বা অননুমোদিত সাইট এড়িয়ে শুধু অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করুন।

  1. প্রথমে অফিসিয়াল ই-টিকিট পোর্টালে প্রবেশ করুন।
  2. এরপর যাত্রার তারিখ, শুরুর স্টেশন ও গন্তব্য নির্বাচন করুন।
  3. পরবর্তী ধাপে ট্রেন নম্বর, আসনের শ্রেণি ও উপলব্ধ সিট যাচাই করুন।
  4. তারপর যাত্রীর তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে নির্ধারিত পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
  5. সবশেষে ই-টিকিটের PDF কপি সংরক্ষণ করুন এবং মোবাইল এসএমএসটি রেখে দিন।

প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেন ছাড়ার ৫ দিন আগে সকাল ৮:০০টা থেকে রাত ১১:৪৫ মিনিট পর্যন্ত টিকিট বুকিং করা যায়। এছাড়া, প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ রয়েছে। স্নিগ্ধা, এসি এস ও এফ সিটের মতো ডিলাক্স ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। তবে বুকিংয়ের সময় সিস্টেমে দেখানো বর্তমান চার্জই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করুন।

টিকিট কাটার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন

  • প্রথমে মঙ্গলবার ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কি না যাচাই করুন।
  • স্টেশনের নাম কাছাকাছি হলেও একই নয়, তাই সঠিক গন্তব্য নির্বাচন করুন।
  • রাতের যাত্রার ক্ষেত্রে বোর্ডিং স্টেশনে অন্তত কিছুটা আগে পৌঁছান।
  • পেমেন্টের পর ই-টিকিট, এসএমএস ও সিট নম্বর সংরক্ষণ করুন।
  • সবশেষে চূড়ান্ত ভাড়া এবং কর বুকিং পেজে আবার মিলিয়ে নিন।

মালামাল বহনের সীমা

বিজয় এক্সপ্রেসে যাত্রীরা শ্রেণি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ মালামাল বিনা ভাড়ায় বহন করতে পারেন। তাই সীমিত বাজেটের যাত্রীরা অতিরিক্ত লাগেজের সম্ভাব্য খরচ এড়াতে ব্যাগের ওজন আগে মেপে নিতে পারেন।

যাত্রীর শ্রেণি বিনা ভাড়ায় বহনের সর্বোচ্চ ওজন
শীতাতপ শ্রেণী ৫৬ কেজি
প্রথম শ্রেণী ৩৭.৫ কেজি
শোভন শ্রেণী ২৮ কেজি
সুলভ দ্বিতীয় শ্রেণী ২৩ কেজি

বড় বা ভারী মালামাল নিয়ে স্টেশনে যাওয়ার আগে রেলওয়ের বর্তমান লাগেজ নীতি জেনে নিন। ওজনসীমা পেরিয়ে গেলে অতিরিক্ত চার্জ, প্যাকেজিং বা পরিবহন-সংক্রান্ত আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই যাত্রার আগেই সংশ্লিষ্ট স্টেশন বা অফিসিয়াল উৎস থেকে নিয়ম যাচাই করা ভালো।

সাধারণ ভুল ও কার্যকর টিপস

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী দেখার সময় শুধু ছাড়ার সময় মনে রাখলেই যথেষ্ট নয়। বরং রুট, সাপ্তাহিক বন্ধ, বোর্ডিং স্টেশন, সিটের শ্রেণি ও ই-টিকিটের তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার।

  • ভুল ১: মঙ্গলবার টিকিট খোঁজা। সমাধান হলো আগে সাপ্তাহিক বন্ধ যাচাই করা।
  • ভুল ২: ময়মনসিংহের মূল সময়ের সঙ্গে যাত্রাবিরতির সময় গুলিয়ে ফেলা। তাই অফিসিয়াল বুকিং সিস্টেমে প্রদর্শিত সময় দেখুন।
  • ভুল ৩: শুধু ভাড়া দেখে আসন নির্বাচন করা। রাতের ৯ ঘণ্টার যাত্রায় আরাম ও বাজেট দুটোই বিবেচনা করুন।
  • ভুল ৪: ই-টিকিটের PDF বা এসএমএস না রাখা। চেকিংয়ের সময় এগুলো দরকার হতে পারে।
  • ভুল ৫: নির্ধারিত সিট বদলে অন্য আসনে বসা। ফলে টিকিটে বরাদ্দ সিটেই বসুন।

লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, সময়সূচী ও ভাড়া অনলাইনে সহজে দেখা গেলেও রেলওয়ের পরিচালনাগত পরিবর্তন একেবারে বাদ দেওয়া যায় না। তাই যাত্রার আগের দিন এবং যাত্রার দিন আবার যাচাই করলে ভুল স্টেশনে পৌঁছানো বা অতিরিক্ত অপেক্ষার ঝুঁকি কমে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বিজয় এক্সপ্রেস এখন কোথায় আছে?

মোবাইলের মেসেজ অপশনে tr 785 অথবা tr বিজয় এক্সপ্রেস লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ট্রেনটির বর্তমান অবস্থান জানা যায়।

বিজয় এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ কোন দিন?

ময়মনসিংহ–চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম–ময়মনসিংহ—দুই দিকের বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার।

অনলাইন টিকিট কাটার পর রিফান্ড কীভাবে পাব?

নিকটস্থ রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে অনলাইন টিকিটের কপি স্টেশন মাস্টারকে দেখাতে হয়। এরপর তিনি টিকিট গ্রহণ করে কাউন্টার টিকিট প্রিন্টের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী রিফান্ডের ব্যবস্থা করেন।

টিকিট কাটার পর সিট নম্বর কোথায় দেখব?

বুকিং শেষ হলে মোবাইল এসএমএস এবং ই-টিকিটের PDF কপিতে সিট নম্বর দেখা যায়। অন্যদিকে, কাউন্টার টিকিটে সিট নম্বর সরাসরি মুদ্রিত থাকে।

ট্রেনে কি সিট আগে থেকেই বরাদ্দ হয়?

বিজয় এক্সপ্রেসে আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকায় টিকিট কাটার সময়ই সিট বরাদ্দ হয়। তাই যাত্রার দিন নিজের নির্ধারিত আসনে বসুন এবং প্রয়োজনে গার্ড বা অনবোর্ড সুপারভাইজারের সহায়তা নিন।

জামালপুর থেকে বিজয় এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন রাত ৮:১০ মিনিটে ছাড়ে এবং ভোর ৫:০০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছে। তবে বুকিংয়ের সময় সর্বশেষ সময় মিলিয়ে নিন।

বিজয় এক্সপ্রেসে কত কেজি মালামাল নেওয়া যায়?

শ্রেণি অনুযায়ী সীমা আলাদা। শীতাতপ শ্রেণীতে ৫৬ কেজি, প্রথম শ্রেণীতে ৩৭.৫ কেজি, শোভনে ২৮ কেজি এবং সুলভ দ্বিতীয় শ্রেণীতে ২৩ কেজি পর্যন্ত বহনের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

যাত্রার আগে শেষ যাচাই

বিজয় এক্সপ্রেস ময়মনসিংহ, জামালপুর ও চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য দীর্ঘপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন। সময়সূচী, ভাড়া, সিট নম্বর ও স্টপেজে প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে কোথাও পরিবর্তন থাকলে অফিসিয়াল বাংলাদেশ রেলওয়ে পোর্টালের তথ্যকে অগ্রাধিকার দিন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের যাত্রায় বুকিংয়ের আগে মঙ্গলবারের বন্ধ, ছাড়ার সময় ও চূড়ান্ত ভাড়া আবার দেখে নিন।টিকিট হাতে পাওয়ার পর ই-টিকিটের PDF, এসএমএস, সিট নম্বর এবং পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখুন। এভাবে পরিকল্পনা করলে দীর্ঘ ৩৪৯ কিলোমিটারের যাত্রা আরও গোছানো ও স্বস্তিদায়ক হবে।

প্রিয় পাঠক, সাগরপারে নোঙর ফেলুন!
আপনার ইমেইল ঠিকানা দিন। নতুন লেখা প্রকাশ হলেই পৌঁছে যাবে আপনার ইনবক্সে।

আপনার ইমেইল আমরা সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করি। চাইলে যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।