আব্বাসউদ্দিন আহমেদ: আজ শরতের রূপে দিপালি


লোকসংগীতের সম্রাট আব্বাসউদ্দিন আহমেদের জন্ম ১৯০১ সালের ২৭ শে অক্টোবর উত্তরবঙ্গের কুচবিহারের বলরামপুরে।

‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে’, ‘ও আমার দরদি আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় চড়তাম না’, ‘নদীর কূল নাই কিনার নাইরে’, ‘মাঝি বাইয়া যাওরে’, ওকি গাড়িয়াল ভাই’, ‘কুচবরণ কন্যারে তোর মেঘবরণ কেশ’, ‘ঐ যে ভরা নদীর বাঁকে’, ‘কি ও বন্ধু কাজল ভোমরারে’, ‘খোদা তোমার নামের তসবি যেন লুকিয়ে রাখি’, ‘একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এই তো নদীর খেলা’, ‘আমায় ভাসাইলিরে’ – প্রভৃতি গানের কথা বাঙালি শ্রোতারা কোনোদিনই হয়ত ভুলতে পারবে না। ভোলার কথাও নয়। ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ এ গানও আজ অবধি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়ে গেছে। এসব গানের কথা মনে হতেই সবার মনে উঁকি দেয় ‘আব্বাসউদ্দিন আহমেদ’ নামটি।

লোকসংগীত সম্রাট আব্বাসউদ্দিন আহমেদ ১৯৫৯ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর লোকান্তরিত হয়েছিলেন ।

আব্বাসউদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা, গায়ক। অথচ তাঁর অভিনীত ছবিগুলো কলকাতা থেকে সংগ্রহ করে অদ্যাবধি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটা আব্বাসউদ্দিন আহমেদের প্রতি রীতিমতো অবহেলা দেখানো নয় কি?

আব্বাসউদ্দিন আহমেদ ছিলেন মস্তবড়ো শিল্পী। ডাকবিভাগ এই শিল্পীর প্রতি কিন্তু যথাযথ সম্মান দেখিয়ে তাঁর স্মরণে কয়েক বছর আগে ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিল। ডিডি সেভেন-এ ‘ঠিকাদার’ প্রদর্শনী দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত হই। তখন আমরা ফিরে পাই আব্বাসউদ্দিনের যৌবনের সেই চেহারা…।

কলকাতায় থাকাকালীন সেই ব্রিটিশ যুগে আব্বাসউদ্দিন আহমেদ সিনেমাতে অভিনয় করেছিলেন। অভিনীত ছবির সংখ্যা পাঁচ। ভারতলক্ষ্মী পিকচার্স নির্মাণ করেছিল একটি কৌতুক খণ্ডছবি।

নাম ‘একটি কথা’। এই ছবিতে একটি বিশিষ্ট ভূমিকায় অভিনয় করেন আব্বাসউদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তুলসী লাহিড়ী, সমর রায়, গিরিন চক্রবর্তী, হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, কালিদাস, কমলা ঝরিয়া, নগেন্দ্রবালা প্রমুখ অভিনেতা-অভিনেত্রী। ছবিটি ১৯৩৭ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি কলকাতার ‘ছায়া’ ছবিঘরে মুক্তি পায়।

বাংলা চলচ্চিত্রে যুদ্ধের ওপর প্রথম তোলা ‘ইমপস্টার’ ছবি। এটি মুক্তি পায় ১৯৩৭ সালে। এই ছবিতেও আব্বাসউদ্দিন আহমেদ অভিনয় করেছিলেন ছোটো একটি ভূমিকায়। এ ছবিতে আরও ছিলেনÑ রতীন ব্যানার্জি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সত্য মুখার্জি, শান্তি গুপ্তা, নিভাননী, রঞ্জিত রায়, জয়নারায়ণ, রবি রায় প্রমুখ।

ইসলামি গানকে জনপ্রিয় করেছিলেন আব্বাসউদ্দিন আহমেদ। নজরুলের লেখা ইসলামি গানের পঁচানব্বই ভাগই তার নিজের সুর দেওয়া। ত্রিশের দশকে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে হয়েছিল ভীষণ সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা। সে-সময় আব্বাসউদ্দিন ‘হিন্দু আর মুসলিম মোরা সহোদর ভাই…’ গানখানি গেয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে মিলনের চেষ্টাও করেন।

 

আব্বাসউদ্দিন আহমেদ
আব্বাসউদ্দিন আহমেদ: ছবি গুগল থেকে নেয়া

 

আব্বাসউদ্দিনের প্রথম রেকর্ডকৃত গান ছিল আধুনিক। গান দু-খানি হলো –  ‘কোন বিরহীর নয়ন জলে বাদল ঝরে গো’ এবং ‘স্মরণপারের ওগো প্রিয়া’। এ গান দু-খানি রেকর্ড হয় ১৯৩১ সালে, গীতিকার ছিলেন শৈলেন রায়। এরই দুবছর পরে একদিন আব্বাসউদ্দিন আহমেদ রিহার্সেল রুমে বসে ভাওয়াইয়া গাইছেন, সে-সময় কাজী নজরুল ইসলাম রুমে ঢুকলেন। তার গান শুনে কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন‌ ঃ

কুচবরণ কন্যারে তার মেঘবরণ কেশ/আমায় নিয়ে যা রে নদী সেই সেই কন্যার দেশ, এবং এর সঙ্গে ‘তোরষা নদীর ধারে’ রেকর্ড হয়ে বেরোল ১৯৩৩ সালের পুজোয়।

আব্বাসউদ্দিন আহমেদ অভিনয় ও গান দুই জগতে জড়িত ছিলেন। তাঁর বড়ো ছেলে মোস্তফা কামাল অভিনয় ও গান এই লাইনে আসেননি। তবে একজন সফল বিচারপতি হতে পেরেছেন। ছোটো ছেলে মোস্তফা জামান আব্বাসী গানের ভুবনে সফল হয়েছেন। একমাত্র মেয়ে ফেরদৌসী বেগম সংগীতভুবনে কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছেছেন। ষাট-সত্তর দশকে এই ফেরদৌসী বেগম প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। আব্বাসউদ্দিন আহমেদের নাতনি নাশিদ কামাল সংগীতভুবনে সফল হয়েছেন।

আব্বাসউদ্দিন আহমেদ বাংলার হিন্দু-মুসলমান সবার কাছে অতিপ্রিয় ছিলেন। তিনি যখন যেখানে গান করতে যেতেন সেখানেই নেমে আসত জনতার ঢল। মারা যাবার কিছুদিন আগে থেকে আব্বাসউদ্দিন বাকহীন হয়ে পড়েন। মৃত্যুর এক মাস আগে ডাইরির পাতায় লেখেন : ‘দু-দিন পরে আমি যখন এ ধরার আনন্দ কোলাহল থেকে চলে যাব, তখন তো এ দুনিয়া আমাকে ভুলে যাবে। চিরকাল জেগে আছে ও থাকবে শুধু আকাশের ঐ চন্দ্র-সূর্য, অগণিত তারা, সজাগ প্রহরীর মতো…। আমার বাগানের হাসনাহেনা, জুঁই চামেলিরা ফুটবে, ঝরবে, ফুটবে। আমি ফুটেছিলাম, দিনকয়েক হেসেছিলাম, এবার ঝরার পথে। ঝরব আর ফুটব না…।’

মৃত্যু আসন্ন এটা বুঝেছিলেন আগেই –  এজন্যই একথা লিখে গেছেন। কিন্তু অমর শিল্পী আব্বাসউদ্দিনকে বাঙালিরা আজও ভুলতে পারেনি।

এখনো পথেঘাটে মানুষের কণ্ঠে শোনা যায় –  ‘মাঝি বাইয়া যাওরে…’, ‘ওঠরে চাষি জগদ্ববাসী’, ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ আরও কত কী সব গান। তখন স্মরণ করে অনেকেই বলেন – এ গান তো আব্বাসউদ্দিন আহমেদের। তাই আব্বাসউদ্দিনের কণ্ঠের মৃত্যু নেই। তিনি অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন এবং থাকবেন।

আব্বাসউদ্দিন আহমেদের গাওয়া উল্লেখযোগ্য গান :

১. নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম।

২. আসে বসন্ত ফুলবনে।

৩. আজ শরতের রূপে দিপালি (১৯৩২)।

৪. দিনগুলি মোর পদ্মেরই দল (১৯৩৫)।

৫. সকাল হলো শোনো (১৯৩২)।

৬. মাঝি বাইয়া যাওরে।

৭. ভুলিতে চাহিনে তাই (১৯৩২)।

৮. গুরুর পদে প্রেম ভক্তি।

৯. বেনুকার বনে কাঁদে।

১০. ওগো মা ফাতেমা (১৯৩৬)।

১১. এ কোন মধুর (১৯৩৭)।

১২. তুমি আশা পুরাও খোদা (১৯৪০)।

১৩. তুমি অনেক দিলে খোদা (১৯৪০)।

১৪. কালো বউ পথ চায়রে (১৯৪০, ঠিকাদার ছবিতে)। ১৫. পৌষের পাহাড়ি বায় (১৯৪০)।

১৬. আল্লাহ নামের বীজ বুনেছি (১৯৪১)।

আব্বাসউদ্দিন আহমেদ অভিনীত ছবির সংখ্যা ৫টি।        ১.

বিষ্ণুমায়া (১৯৩২) :

নিউ থিয়েটার্সের ব্যানারে নির্মিত এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন –  অহীন্দ্র চৌধুরী, জয় নারায়ণ মুখোপাধ্যায়, কার্তিক দে, রেণুবালা (সুখ), কানন দেবী, উমাশী, শিশুবালা প্রমুখের সঙ্গে আব্বাসউদ্দিন আহমেদও। পরিচালক –  জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

২.

একটি কথা (স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি, মুক্তির তারিখ –  ৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬)।

৩.

মহানিশা (মুক্তির তারিখ – ২রা মে, ১৯৩৬) :

নরেশ মিত্র পরিচালিত এই ছবিতে রবি রায়, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, অমর বসু, ভূমেন রায়, আসমান তারা, রেণুকা রায়, রাজলক্ষ্মী প্রমুখের সঙ্গে আব্বাসউদ্দিন আহমেদও অভিনয় করেন।

৪.

ঠিকাদার (মুক্তির তারিখ ৮ই নভেম্বর, ১৯৪০)

৫.

ইম্পস্টার (১৯৩৭)।

আব্বাসউদ্দিন এবং ‘ঠিকাদার’

‘পৌষের পাহাড়ি বায় কাঁটা যে বিঁধিল

চাকরি আর করব কি মরব কি মরব না

পাহাড়িয়া কালা জ্বরে…’

এরকম একটি গানের দৃশ্য ভারতীয় টিভি চ্যানেলে দেখে আশি বছরের বৃদ্ধ আমারই কাকা অবাক বিস্ময়ে টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে রইলেন (১৯৮৫ সালে)। বলে উঠলেন, এ যে আমাদের আব্বাসউদ্দিন আহমেদ। আহা, বহুদিন পরে তাঁকে যে টিভিতে দেখলাম। তখন আমার মনে একটি প্রশ্ন জেগে উঠল, ভারতীয় টিভি চ্যানেলে যদি আব্বাসউদ্দিন আহমেদকে দেখাতে পারে তাহলে আমাদের দেশে এত সব চ্যানেল আজ তা পারছে না কেন?

 

মোস্তফা জামান আব্বাসী
মোস্তফা জামান আব্বাসী: আব্বাসউদ্দিন আহমেদের ছেলে

 

আব্বাসউদ্দিন আহমেদ আমাদের দেশের লোকসংগীতের সম্রাট। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে সংগীতচর্চা যখন নিষিদ্ধ ছিল তখন তিনিই গানের ভুবনে প্রবেশ করে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন। তাঁর গাওয়াÑ ‘মাঝি বাইয়া যাওরে’ এই গান তো এখন পর্যন্ত গোটা বাংলাদেশের সংগীতপিপাসুদের মুখে মুখে। তিনিই প্রথম বাঙালি মুসলমান সংগীতশিল্পীদের মধ্যে খ্যাতির তুঙ্গে উঠে এসেছিলেন। এই আব্বাসউদ্দিনই ইসলামি সংগীত, লোকসংগীতকে জনপ্রিয় করেছিলেন।

১৯৪৭ সালের আগেই কলকাতায় নির্মিত কয়েকটি ছবিতে তিনি কণ্ঠ দেন। এর মধ্যে ‘ঠিকাদার’ এবং ‘পরশমণি’ ছবির কথা সেদিনের জীবিত দর্শকদের হয়ত এখনো মনে থাকার কথা। ১৯৪০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঠিকাদার’ ছবিতে তো তিনি অভিনয় করে ¯^কণ্ঠে গানও গেয়েছিলেন। বাংলার সুদূর পার্বত্য প্রদেশে এক চা-বাগান। সেখানে চা-বাগানের কুলি হলেন আব্বাসউদ্দিন আহমেদ। একটি দৃশ্যে গারো কাঁটা চা-বাগানে মহা হইচই। সেখানেই আব্বাসউদ্দিন অন্যান্য সহশিল্পীদের নিয়ে গাইছিলেন – ঃ

ও কালো বউ পথ চায়রে

আহা রাঙা ঠোঁটে পান খায়রে

কালো বউ গান গায়রে

আহা কানে তার মহুয়ার ফুল দোলে…’।

এরকম দৃশ্য কিন্তু চিরকালের চিরদিনেরই মনে হয় ‘ঠিকাদার’ দেখে। ছবির নায়িকা রেণুকা রায় এলেন, চা-পাতা তুলে তুলে কুলিরা গাইছিলেন –  ‘পৌষের পাহাড়ি বায়’। গান শুনতে শুনতে রেণুকা রায় বললেন, ‘না –  আমি যে গান শুনতে এলুম’। তখন তো আব্বাসউদ্দিনের মুখে হাসি। এরপরের দৃশ্যেই দেখা গেল মহাতারকা দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

 

আরও পড়ুন: ফেরদৌসী রহমান: আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল

 

বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী গিরিন চক্রবর্তী, কমলা ঝরিয়া প্রমুখও এই ছবিতে অভিনয় করে স্বকণ্ঠে গান গেয়েছিলেন। গিরিন চক্রবর্তীর নেচে নেচে গাওয়া –  ‘কাঁদে বাগানে কন্যা

পান বেচিতে যায়

কন্যা রসের গীত গায়…”  গানের দৃশ্য দেখেও যেন দেখা শেষ হলো না। মনে হলো যেন বারে বারে দেখি।

‘পরশমণি’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৩৯ সালে। এই ছবিটিও একবার দেখার সুযোগ হয়েছিল ভারতীয় একটি চ্যানেলে। এই ছবিতে আব্বাসউদ্দিন গেয়েছিলেন ঃ

‘কেন তুই জড়িয়ে গেলি ভুলের জালে পরশমণি চিনলি না’ ‘এবং তুই সাপের মুখে হাত বাড়ালি মন জ্বালা জুড়ায় কার লাগিয়া’।

কোচবিহারের মানুষের কথা ঃ

একবার কোচবিহারে বেড়াতে গিয়ে (১৯৮৪ সালে) ওখানকার মানুষের মুখে মুখে শুনেছি আব্বাসউদ্দিনের নাম। তাঁর নাম শুনে এখনো অনেকে বলেন, উনি তো আমাদেরই লোক। লোকসংগীতে অমন কণ্ঠশিল্পী তো আর জন্মালই না।

 

Ferdoushi Rahman
ফেরদৌসী রহমান: আব্বাসউদ্দিন আহমেদের মেয়ে

 

আব্বাসউদ্দিনের গান এ প্রজন্মের কণ্ঠশিল্পীরাও বিভিন্ন চ্যানেলে ঘুরেফিরে গাইছেন। অথচ তাঁর নামটি আগেপরে কেউই বলছে না। তাঁর গাওয়া গান ইউটিউবে গেয়েও কেউ কেউ বাহবা নিচ্ছে। কিন্তু এ প্রজন্মকে জানানো হচ্ছে না, ও গানের মূল শিল্পী যে আব্বাসউদ্দিন আহমেদ। অডিয়ো-সিডি কোম্পানিগুলো আব্বাসউদ্দিনের গান এ প্রজন্মের শিল্পীদের দিয়ে গাওয়ায়ে ক্যাসেট ও সিডির গায়ে মূল শিল্পীর নামটি পর্যন্ত ঊহ্য রেখেই যাচ্ছে। দেখতে পাচ্ছি, এত বড়ো একজন শিল্পীকে কেউ যেন স্মরণ করতে চাইছে না। এদিকে ভারতীয় চ্যানেলে আব্বাসউদ্দিন অভিনীত ‘ঠিকাদার’ ছবিটি দেখে আনন্দ পেলেও আবার হতাশ হই এজন্য যে, ঢাকার এখন তো চ্যানেলের ছড়াছড়ি। কিন্তু তারা কি পারে না আব্বাসউদ্দিন অভিনীত ঠিকাদার ছবিটি দেখাতে? দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, তুলসী লাহিড়ী, ধীরাজ ভট্টাচার্য, রবি রায়, রানি বালা, জ্যোৎস্নাগুপ্তা অভিনীত ‘পরশমণি’তে আব্বাসউদ্দিন কণ্ঠ দিয়েছিলেন তা আজ কয়জনেই বা জানে! কিন্তু অতীতের সেই স্মরণীয় চিত্রগুলো টিভি পর্দায় প্রদর্শন করে আব্বাসউদ্দিন আহমেদকে চেনাবার দায়িত্ব টিভি মিডিয়াকেই নিতে হবে। এ ব্যাপারে টিভি চ্যানেলগুলো এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা রাখি।