ওমানের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা ২০২৬ – আজকের টাকার রেট

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ওমান বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় একটি শ্রমবাজার। লাখ লাখ বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা ওমানে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। যারা ওমানে নতুন যেতে চাচ্ছেন কিংবা যারা ইতিমধ্যেই সেখানে আছেন, তাদের সবারই প্রতিদিনের প্রধান জিজ্ঞাসার বিষয় থাকে কারেন্সি রেট বা টাকার মান নিয়ে। বিশেষ করে ওমানের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা বা ওমানি রিয়ালের আজকের রেট কত, সেটা জানা থাকলে দেশে টাকা পাঠানো এবং হিসাব করা সহজ হয়।

২০২৬ সালে এসে টাকার মানের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের ওঠানামা এবং বাংলাদেশের রিজার্ভ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে রিয়ালের দাম বাড়ে বা কমে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ওমানের মুদ্রার মান, রিয়াল এবং বাইসার হিসাব, এবং কোন ব্যাংকে টাকা পাঠালে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি ওমান প্রবাসী হন বা আপনার আত্মীয়-স্বজন ওমানে থাকে, তবে এই গাইডটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ওমানের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা?

সাধারণ মানুষ বা প্রবাসীরা কথ্য ভাষায় ওমানের মুদ্রাকে “টাকা” বলে থাকেন, কিন্তু ওমানের অফিসিয়াল মুদ্রার নাম হলো “ওমানি রিয়াল” (OMR)। যখন কেউ প্রশ্ন করেন ওমানের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা, তখন মূলত তিনি ১ ওমানি রিয়ালের মূল্য জানতে চান। ওমানি রিয়াল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রাগুলোর একটি।

২০২৬ সালের বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী, ১ ওমানি রিয়াল বা ওমানের এক টাকা সমান বাংলাদেশের প্রায় ৩২৫ টাকা থেকে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে মনে রাখবেন, এই রেট প্রতিদিন এবং প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন হতে পারে। ব্যাংকিং চ্যানেল এবং খোলা বাজারের (কার্ব মার্কেট) রেটের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকে। সাধারণত ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে ১-২ টাকা বেশি পাওয়া যেতে পারে, তবে হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানো আইনত দণ্ডনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

সহজ কথায় বলতে গেলে, আপনি যদি ওমান থেকে ১ রিয়াল দেশে পাঠান, তবে আপনার পরিবার বাংলাদেশে ৩২৫ টাকার আশেপাশে পাবে (সাথে সরকারি ২.৫% প্রণোদনা যুক্ত হলে টাকার পরিমাণ আরও বাড়বে)।

ওমানি রিয়াল ও বাইসার হিসাব বুঝুন

অনেকেই ওমানের মুদ্রার হিসাব করতে গিয়ে রিয়াল এবং বাইসার মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশের মুদ্রায় যেমন টাকা এবং পয়সা থাকে, ওমানের মুদ্রায় তেমনি রিয়াল এবং বাইসা থাকে। ওমানের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা এটা জানার পাশাপাশি বাইসার হিসাব জানাও জরুরি। কারণ ছোটখাটো কেনাকাটায় রিয়ালের চেয়ে বাইসার ব্যবহার বেশি হয়।

ওমানের মুদ্রার হিসাবটি নিম্নরূপ:

  • ১০০০ বাইসা = ১ ওমানি রিয়াল।

অর্থাৎ, আপনার কাছে যদি ৫০০ বাইসার নোট থাকে, তার মানে আপনার কাছে আধা রিয়াল বা ০.৫ রিয়াল আছে। এখন ১ রিয়ালের দাম যদি ৩২৫ টাকা হয়, তবে ৫০০ বাইসার দাম হবে ১৬২.৫০ টাকা। ১০০ বাইসার দাম হবে ৩২.৫০ টাকা। যারা নতুন ওমানে যান, তারা অনেক সময় ১০০ বাইসাকে ১ রিয়াল মনে করে ভুল করেন। তাই এই হিসাবটি মাথায় রাখা খুব জরুরি।

ওমানি রিয়াল টু বাংলাদেশি টাকা (BDT) কনভার্সন চার্ট ২০২৬

আপনার সুবিধার্থে নিচে ওমানের টাকার সাথে বাংলাদেশি টাকার একটি সম্ভাব্য রূপান্তর তালিকা বা চার্ট দেওয়া হলো। এটি সাধারণ হিসাবের জন্য ব্যবহার করতে পারেন, তবে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই ওই দিনের নির্দিষ্ট ব্যাংকের রেট জেনে নেবেন। (হিসাবের সুবিধার্থে ১ রিয়াল = ৩২৫ টাকা ধরা হয়েছে)।

ওমানি রিয়াল (OMR)বাংলাদেশি টাকা (BDT) – আনুমানিক
১ রিয়াল৩২৫ টাকা
৫ রিয়াল১,৬২৫ টাকা
১০ রিয়াল৩,২৫০ টাকা
২০ রিয়াল৬,৫০০ টাকা
৫০ রিয়াল১৬,২৫০ টাকা
১০০ রিয়াল৩২,৫০০ টাকা
৫০০ রিয়াল১,৬২,৫০০ টাকা

এই তালিকাটি দেখলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে আপনি কত রিয়াল পাঠালে দেশে কত টাকা জমা হবে।

ওমানের টাকার রেট কেন বাড়ে বা কমে?

ওমানের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা হবে, তা নির্ভর করে কয়েকটি প্রধান বিষয়ের ওপর। অনেকেই ভাবেন রেট কেন সবসময় এক থাকে না। এর পেছনে কিছু অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে:

১. আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মূল্য

ওমানি রিয়াল মূলত মার্কিন ডলারের সাথে পেগ করা বা সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ ডলারের দামের সাথে রিয়ালের দামের একটি স্থির সম্পর্ক আছে। কিন্তু বাংলাদেশি টাকার মান ডলারের বিপরীতে ওঠানামা করে। যখন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান কমে যায়, তখন ওমানি রিয়ালের দাম বেড়ে যায়।

২. বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ

যদি বাংলাদেশে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেখা দেয়, তখন ব্যাংকগুলো বেশি দামে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করার চেষ্টা করে। ফলে প্রবাসীরা রিয়ালের বিনিময়ে বেশি টাকা পান। আবার রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে রেট স্থিতিশীল থাকে।

৩. সরকারি প্রণোদনা ও নীতি

বাংলাদেশ সরকার বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে ২.৫% নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। অনেক সময় ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও অতিরিক্ত বোনাস দেয়। এসব বোনাস যোগ হলে প্রবাসীরা ১ রিয়ালের বিনিময়ে সাধারণ রেটের চেয়ে বেশি টাকা পান।

ওমান থেকে টাকা পাঠানোর সেরা মাধ্যম

আপনি যদি ওমান থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে চান এবং সর্বোচ্চ রেট পেতে চান, তবে সঠিক মাধ্যম নির্বাচন করা জরুরি। বর্তমানে বেশ কয়েকটি এক্সচেঞ্জ হাউজ এবং ব্যাংক ভালো রেট দিচ্ছে।

  • মডার্ন এক্সচেঞ্জ: ওমানে এটি বেশ জনপ্রিয়। এখান থেকে সরাসরি বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠানো যায়।
  • লুলু এক্সচেঞ্জ: এটি প্রবাসীদের কাছে খুবই বিশ্বস্ত। লুলু এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে টাকা পাঠালে অনেক সময় তাৎক্ষণিক ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়।
  • গ্লোবাল মানি এক্সচেঞ্জ: ভালো রেট এবং দ্রুত সেবার জন্য এটি পরিচিত।
  • ব্যাংকিং চ্যানেল: সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, বা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মতো বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সাথে ওমানের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর চুক্তি থাকে। সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠালে সরকারি ২.৫% প্রণোদনা পাওয়া নিশ্চিত থাকে।

হুন্ডি বা অবৈধ পথ পরিহার করুন

বেশি টাকার লোভে অনেকেই হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর চিন্তা করেন। হয়তো হুন্ডিতে ওমানের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা হিসাব করলে ১-২ টাকা বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু এটি দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং আপনার কষ্টার্জিত টাকার জন্যও অনিরাপদ। হুন্ডিতে টাকা পাঠালে টাকা চুরির ভয় থাকে এবং কোনো আইনি সহায়তা পাওয়া যায় না। বৈধ পথে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে আপনার টাকার নিরাপত্তা থাকে এবং দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে আপনাকেই লাভবান করে।

ওমানের বেতন কাঠামো ও জীবনযাত্রার খরচ

টাকার রেট জানার পাশাপাশি ওমানের বর্তমান বেতন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা রাখাও দরকার। ২০২৬ সালে ওমানে একজন সাধারণ শ্রমিকের বেতন কাজের ধরনভেদে ৮০ রিয়াল থেকে শুরু করে ১৫০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে। দক্ষ কর্মীদের বেতন ২০০ থেকে ৪০০ রিয়াল বা তার বেশিও হয়।

যদি আপনি মাসে ১০০ রিয়াল বেতন পান এবং তার মধ্যে খাওয়া ও থাকা বাবদ ৪০ রিয়াল খরচ করেন, তবে আপনি ৬০ রিয়াল সঞ্চয় করতে পারবেন। বর্তমান রেট (৩২৫ টাকা) অনুযায়ী এই ৬০ রিয়ালের মান বাংলাদেশে প্রায় ১৯,৫০০ টাকা। তাই ওমানে যাওয়ার আগে বেতন কত এবং খরচ বাদে কত জমাতে পারবেন, সেই হিসাবটি কষে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, ওমানি রিয়াল একটি শক্তিশালী মুদ্রা এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এটি আয়ের বড় উৎস। ওমানের এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা বা আজকের রেট ৩২৫ থেকে ৩৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। আপনি যখনই টাকা পাঠাবেন, চেষ্টা করবেন সপ্তাহের শুরুতে বা যখন রেট একটু চড়া থাকে তখন পাঠাতে। সবসময় বৈধ এক্সচেঞ্জ হাউজ ব্যবহার করবেন এবং রসিদ সংরক্ষণ করবেন। আপনার পাঠানো টাকা শুধু আপনার পরিবারের মুখে হাসি ফোটায় না, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও বিশাল ভূমিকা রাখে।

আশা করি এই লেখাটি থেকে আপনি ওমানের মুদ্রার মান এবং বিনিময় হার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেয়েছেন। নিয়মিত টাকার রেট আপডেট জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।