[মঞ্চে উঠে কিছুক্ষণ নীরব থেকে, চারপাশে তাকিয়ে, আবেগ নিয়ে শুরু করুন]
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আসসালামু আলাইকুম।
শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক মহোদয়, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ এবং আমার প্রাণাধিক প্রিয় সহপাঠী, ছোট ভাই-বোনেরা—
আজ আমাদের জীবনের এক অনন্য ও আবেগঘন মুহূর্ত। যে স্কুলের আঙিনায় আমরা শৈশব থেকে কৈশোরের সোনালি দিনগুলো কাটিয়েছি, সেই প্রিয় স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় নেওয়ার দিন আজ। মনটা বারবার ফিরে যাচ্ছে সেই প্রথম দিনের কথায়—যেদিন ছোট্ট কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ভয়ে ভয়ে স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকেছিলাম। সবকিছুই ছিল অচেনা। কিন্তু আজ? আজ এই স্কুলের প্রতিটি ইট-পাথর, প্রতিটি বেঞ্চ, এমনকি বারান্দার বাতাসও আমাদের আপনজন হয়ে গেছে।
মনে পড়ে সেই টিফিন পিরিয়ডের দিনগুলো—এক প্লেটে খাবার ভাগ করে খাওয়া, ক্লাসে স্যার পড়া ধরলে ফিসফিস করে উত্তর দেওয়া, খেলার মাঠে ছোট ঝগড়া আর পরক্ষণেই গলা জড়িয়ে হাসাহাসি। আর দুষ্টুমির সময় স্যারদের বকা—তখন রাগ হতো, কিন্তু আজ বুঝি সেই বকাই ছিল আমাদের জীবন গড়ার মূল্যবান ইট।
শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী, আজ আমরা সবাই মাথা নত করে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। অবুঝ বয়সে হয়তো অনেকবার আপনাদের মন কষ্ট দিয়েছি, পড়া না পেরে হতাশ করেছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আপনাদের শাসন ছিল আমাদের জন্য আশীর্বাদ আর স্নেহ ছিল এগিয়ে চলার প্রেরণা। আপনারা শুধু বইয়ের পড়া শেখাননি, মানুষ হতে শিখিয়েছেন। এই ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়।
প্রিয় সহপাঠী ও বন্ধুরা, আজ থেকে আমাদের পথ হয়তো আলাদা হবে। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ দেশের সেবক হব। কিন্তু এই স্কুলের ছায়াতলে যে বন্ধন গড়ে উঠেছে, তা কোনোদিন ছিন্ন হবে না।
সামনে আমাদের জীবনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ—এসএসসি পরীক্ষা। ভয় হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই ভয়ের চেয়ে অনেক বড় হলো আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও আশীর্বাদ। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, এই স্কুলের সম্মান আমরা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেব না।
ছোট ভাই-বোনদের বলছি—এই স্কুল তোমাদের আমানত। একে ভালোবেসো, যত্ন করো, আরও উজ্জ্বল করে তোলো।
শেষ কথা—চোখ ভিজে আসছে, কথা আটকে যাচ্ছে। বিদায় প্রিয় স্কুল… বিদায় প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ… বিদায় আমার শৈশবের সব খেলার সাথী। যেখানেই থাকি, এই স্কুলের নাম আমাদের হৃদয়ে চিরকাল খোদাই থাকবে।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ। [চোখ মুছে, মাথা নত করে সালাম জানিয়ে মঞ্চ থেকে নামুন]
এই বক্তব্যটি এসএসসি বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য হিসেবে ২০২৬ সালে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্লগে ব্যবহার করলে সার্চে ভালো আসবে ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে আরও ছোট/লম্বা করে দিতে পারি।