মরক্কো যেতে কত টাকা লাগে ও ভিসার দাম কত

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মরক্কো যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির সেবা পাওয়া যায়। এজেন্সিভেদে বাংলাদেশ থেকে মরক্কো যাওয়ার মোট খরচের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণভাবে, বাংলাদেশ থেকে মরক্কো যাওয়ার বিমান ভাড়া ন্যূনতম প্রায় ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিমান ভাড়া কম হলে মোট খরচও তুলনামূলকভাবে কম হয়। এজন্য বৈধ বাংলাদেশী পাসপোর্ট থাকা আবশ্যক। বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরির খরচ সাধারণত ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিমান ভাড়া, ভিসা এবং পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি ও পরামর্শ অনুসরণ করে সামগ্রিক খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব।

মরক্কো যেতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশ থেকে মরক্কো যাওয়ার মোট খরচ ভিসার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণত সর্বনিম্ন প্রায় ৩ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

  • শিক্ষার্থী ভিসা: ন্যূনতম প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
  • পারিবারিক ভিসা: পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী ন্যূনতম প্রায় ৩ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
  • কাজের ভিসা: ন্যূনতম প্রায় ৭ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
  • এজেন্সি সার্ভিস চার্জ: এজেন্সির মাধ্যমে গেলে সেবা চার্জ বাবদ অতিরিক্ত ন্যূনতম প্রায় ১৪ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

মরক্কো ভিসার দাম কত

মরক্কো ভিসার খরচ ভিসার ক্যাটাগরি অনুসারে ভিন্ন হয়ে থাকে।

  • শিক্ষার্থী ভিসা: প্রায় ১ লাখ টাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
  • ভ্রমণ ভিসা: প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা।
  • ব্যবসা ভিসা: প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা।
  • কাজের ভিসা: প্রায় ৪ লাখ টাকা থেকে ৬ লাখ টাকা।

ভিসার জন্য আবেদন করতে প্রাথমিকভাবে আবেদন ফি হিসেবে সাধারণত ১২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়।

মরক্কোতে বেতন কেমন

মরক্কোতে চাকরির ধরনভেদে বেতন কাঠামো ভিন্ন হয়।

  • সাধারণ চাকরির ক্ষেত্রে মাসিক বেতন ন্যূনতম প্রায় ৪০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
  • অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রে মাসিক বেতন প্রায় ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
  • উচ্চপদস্থ বা বিশেষায়িত চাকরির ক্ষেত্রে মাসিক বেতন ন্যূনতম ৯০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

মরক্কো যেতে কি কি লাগে

বাংলাদেশ থেকে মরক্কো যাওয়ার জন্য প্রয়োজন:
১. বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট।
২. মরক্কোর সংশ্লিষ্ট ভিসা।
৩. বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত এয়ারলাইন্সের বিমান টিকেট।

ভিসার জন্য সাধারণত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ফটোকপি।
  • জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট (আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ)।
  • ভিসা আবেদন ফরম ও ফি জমার রশিদ।
  • মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট।
  • প্রয়োজনীয় দক্ষতার সনদপত্র।

দ্রষ্টব্য: মরক্কো দূতাবাস বা এজেন্সিভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে। সরাসরি সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বা দূতাবাস থেকে সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

আরও জানতে পারেনঃ পর্তুগাল টাকার মান কত

শেষ কথা

বাংলাদেশ থেকে মরক্কো যাওয়ার মোট খরচ ভিসার ধরন, বিমান ভাড়া, ট্রাভেল এজেন্সির চার্জ এবং ভ্রমণের মৌসুর উপর নির্ভর করে কম-বেশি হতে পারে। সাধারণত ভ্রমণের অফ-সিজনে (মার্চ থেকে মে মাসের মতো সময়) বিমান ভাড়া ও ভিসা প্রক্রিয়ার খরচ তুলনামূলক কম থাকে। এছাড়া বিভিন্ন এজেন্সি থেকে বিশেষ অফার পাওয়া গেলেও সামগ্রিক খরচ কমানো সম্ভব।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)

বাংলাদেশ থেকে মরক্কো যেতে কত সময় লাগে?

ট্রানজিটের সময়ের উপর নির্ভর করে বিমান যাত্রায় সাধারণত ১২ ঘন্টা থেকে ১৮ ঘন্টা সময় লাগে।

মরক্কো যেতে কত বয়স লাগে?

কাজের ভিসার জন্য সাধারণত ন্যূনতম ২১ বছর বয়স প্রয়োজন।

বাংলাদেশ থেকে মরক্কো কত কিলোমিটার দূরে?

বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যকার আনুমানিক দূরত্ব প্রায় ৯,২৯৫ কিলোমিটার।

মরক্কো যাওয়ার উপায় কি?

বৈধ বাংলাদেশী পাসপোর্ট, উপযুক্ত মরক্কো ভিসা এবং আন্তর্জাতিক বিমানের টিকিটের মাধ্যমে যাওয়া যায়।

মরক্কো কিসের জন্য বিখ্যাত?

মরক্কো তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থান এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য পর্যটন ক্ষেত্রে বিখ্যাত।

ক্রোয়েশিয়ার নাগরিকদের জন্য মরক্কো ভিসা প্রযোজ্য কি?

হ্যাঁ, বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ার নাগরিকদের জন্য মরক্কো ভিসা প্রাপ্য।

মরক্কো যাওয়ার খরচ কিভাবে কমানো যায়?

অফ-সিজনে ভ্রমণ করুন, বিভিন্ন এজেন্সির দাম তুলনা করুন, এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই সুসংগঠিত রাখুন।