ট্রয় নগরী ধ্বংসের কারণ যা আজও বিস্ময়কর


ট্রয় নগরী ইতিহাসের এক ট্রাজিক উপাখ্যান। ট্রয় নগরীর সাথে জুড়ে আছে সেসময়ের জগদ্বিখ্যাত সুন্দরী হেলেনের নাম। ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এক অধ্যায় নিয়ে লিখেছেন লিয়াকত হোসেন খোকন

Table of Contents

ট্রয় নগরী তুরস্কে অবস্থিত।

অতীব সুন্দরী হেলেনের জন্য দশ বছর ধরে যুদ্ধে অসংখ্য বীর ও ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছিল। সে ঘটনা আজ থেকে তিন হাজার বছরেরও আগের কথা। মাত্র একজন নারীকে উদ্ধার করতে এজিয়ান সাগর পাড়ি দিল এক হাজার জাহাজ। তখনও পৃথিবীর সেরা সুন্দরী হিসেবে হেলেনকেই মনে করা হতো।

ট্রয় নগরী ধ্বংসের কারণ

সৌন্দর্যের কারণেই সুখী হতে পারেননি হেলেন। তাঁর জন্য ট্রয়ের যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছিল হাজার হাজার বীর যোদ্ধা। ব্যাপক সংঘর্ষ ও যুদ্ধের কারণে ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়ে গেল। জ্বলেপুড়ে ছাড় খাঁড় হয়ে গিয়েছিল ট্রয় নগরী।

অথচ সুখী ও সমৃদ্ধশালী নগরী ছিল ট্রয়। সুন্দরী নারী হেলেনের কারণেই ধুলোয় মিশে গিয়েছিল ট্রয় নগরী।

হেলেন শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ টর্চ থেকে। গ্রিক ভাষায় হেলেন শব্দের অর্থ হল ‘জলন্ত সামগ্রী’।

জানা যায়, দেবী আফ্রোদিতিই হেলেন নাম নিয়ে মর্ত্যে নেমে এসেছিলেন, তারপর আশ্রয় নিয়েছিলেন স্পার্টার রাজা টিন্ডারাসের প্রাসাদে।

স্পার্টার দক্ষিণ -পূর্বের থেরেপনিতে হেলেনের মন্দির রয়েছে, যা আবিষ্কার হয়, যথাক্রমে ১৮৩৩ এবং ১৮৪১ খৃষ্টাব্দে। সেখানে অর্থাৎ সেই মন্দিরগুলিতে  একসময় স্পার্টার লোকজন হেলেনকে দেবী হিসেবেই পূজো করা হতো।

সেই যুগে জিউসকন্যা হিসেবেও হেলেনের একটা আলাদা পরিচয় ছিল।
হেলেন ছিলেন উর্বরতা আর নিরামিষের দেবী।
গ্রিক ভাষায় ট্রয়কে বলা হয় ত্রাইয়া বা ইলিয়ন।

ইলিয়নকে আবার ইলিয়াড বলা হয়। ইলিয়াডের অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে ট্রয়।

ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ট্রয়কে খুঁজে বের করেন হাইনরিখ স্ল্যাইম্যান নামে এক জার্মান ব্যবসায়ী।

ট্রয় নগরী ধ্বংসের কারণ নিয়ে অনেক কাহিনী ডালপালা গজিয়েছে।

ট্রয় নগরী কোথায়?

ট্রয়ের তুর্কী নাম ক্রুভা। তুরস্কের আনাতোলিয়া অঞ্চলের হিসারলিক নামক জায়গায় ট্রয় নগরীর অবস্থান ছিল। অর্থাৎ এখনকার হিসারলিক শহরটাই হলো প্রাচীন ট্রয় নগরী।

তুরস্কের কানাক্কাল প্রদেশের সমুদ্র সৈকতের কাছে এবং আইডা পর্বতের নিচে দার্দানেলিসের দক্ষিণ –

পশ্চিমেই হিসারলিক শহর। ১৯৯৮ খৃষ্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের জায়গায় যুক্ত হয় ট্রয় নগরী।

হেলেনকে নিয়ে ট্রয় নগরীতে যুদ্ধের বর্ণনা প্রাচীন গ্রিসের অনেক মহাকাব্যে উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমানে ট্রয় একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নাম। হোমারের ইলিয়াডে যে ট্রয়ের উল্লেখ রয়েছে সেটিকেই এখন ট্রয় নগরী।

রোমান সম্রাট অগাস্টাসের রাজত্বকালে প্রাচীন ট্রয় নগরীর ধ্বংস স্তূপের উপর ইলিয়াম নামে নতুন একটি শহর স্থাপিত হয়। কনস্টান্টিনোপল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ইলিয়াম বিকশিত হয়েছে। কিন্তু বাইজান্টাইন রাজত্বের সময় ধীরে ধীরে এর পতন হতে থাকে।

ট্রয় নগরীর হেলেন

হেলেন ছিলেন স্পার্টার রাজা মেনেলাউসের স্ত্রী। তার ভাইবোনের নাম – ক্যাস্টর, পলিডিউসিস এবং ক্লিটেমনেসট্রা। ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিস, হেলেনকে নিয়ে স্পার্টা থেকে ট্রয়ে পালিয়ে এসেছিল। এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই মেনেলাউস যুদ্ধ যাত্রা করে। আর এ ভাবেই শুরু হয় ট্রোজান যুদ্ধ।

দীর্ঘ দশ বছর ধরে রক্তক্ষয়ী ট্রয় যুদ্ধ সংগঠিত হয় ট্রয় নগরীতে। খ্রিস্টপূর্ব ১১৯৪ থেকে শুরু হয়ে যুদ্ধ সমাপ্ত হয় ১১৮৪ খ্রীস্টপূর্বে।

দেব দেবীদের ষড়যন্ত্র, লোভ, নিষ্ঠুরতা ও পাগলামির ফসল এ যুদ্ধ থেটিস -পুত্র অ্যাকিলিসের হস্তে শুরু হয়ে যুদ্ধের দশম বছরে প্রায়াম -পুত্র ও ট্রোজান সেনাপতি হেক্টরের বা হেকতারের মৃত্যুর মাধ্যমে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। দেবী হেলেনের ছলনা, জিউস -পুত্র অ্যাপোলোর গাদ্দারী ও দেবরাজ জিউসের নীতিভঙ্গই হেকতারের মৃত্যুর কারণ। সেই সঙ্গে হেকতার ও প্রায়ামের সৎ ভাই ও টিটেনাস -পুত্র মেমননের পতন ট্রয়ের পতন নিশ্চিত করে দিয়েছিল।

পরিশেষে, অ্যাকিলিস, হেকতার, প্যারিস, মেমনন ও প্রায়ামের মৃত্যু এবং ট্রয় নগরীর ধ্বংসের মাধ্যমে এ যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছিল।