রাশিয়ার এক টাকা বাংলাদেশের কত

রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং তাদের মুদ্রার নাম হলো Russian Ruble (রাশিয়ান রুবল)। বর্তমানে শিক্ষা, ব্যবসা বা ভ্রমণের জন্য অনেক বাংলাদেশি রাশিয়ায় যাচ্ছেন। আর তাই যাতায়াত বা লেনদেনের আগে সবার মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে রাশিয়ার এক টাকা বাংলাদেশের কত? অর্থাৎ রাশিয়ার ১ রুবল ভাঙালে আমাদের দেশের কত টাকা পাওয়া যাবে।

কারেন্সি রেট বা মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজার এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই মান ওঠানামা করে। আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলে আমরা রাশিয়ার মুদ্রা, বর্তমান বিনিময় হার এবং টাকা পাঠানোর নিয়ম নিয়ে আলোচনা করব।

রাশিয়ার মুদ্রার পরিচয় ও নাম

আমরা যেমন আমাদের মুদ্রাকে ‘টাকা’ বলি, রাশিয়াতে তাদের মুদ্রাকে বলা হয় Ruble (রুবল)। রাশিয়ার মুদ্রার সংকেত হলো এবং আন্তর্জাতিক কোড হলো RUB। আমাদের দেশে যেমন ১ টাকার নিচে পয়সা থাকে, রাশিয়ায় রুবলের ছোট একককে বলা হয় Kopek (কোপেক)। ১০০ কোপেক মিলে হয় ১ রুবল।

রাশিয়াতে বর্তমানে ৫, ১০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০, ১০০০, ২০০০ এবং ৫০০০ রুবলের নোট প্রচলিত আছে। এছাড়া ১, ২, ৫ এবং ১০ রুবলের কয়েনও পাওয়া যায়।

রাশিয়ার এক টাকা বাংলাদেশের কত (বর্তমান আপডেট)

আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, রাশিয়ার ১ রুবলের মান বাংলাদেশি টাকায় খুব বেশি নয়। সাধারণত রাশিয়ার রুবল আমাদের টাকার তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী হলেও এর পার্থক্য খুব সামান্য।নিচে একটি সম্ভাব্য রেট চার্ট দেওয়া হলো (মনে রাখবেন, এটি বাজারভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে):

রাশিয়ান রুবল (RUB)বাংলাদেশি টাকা (BDT)
১ রুবল১.৩১ টাকা (প্রায়)
৫ রুবল৬.৫৫ টাকা
১০ রুবল১৩.১০ টাকা
৫০ রুবল৬৫.৫০ টাকা
১০০ রুবল১৩১.০০ টাকা
৫০০ রুবল৬৫৫.০০ টাকা
১০০০ রুবল১৩১০.০০ টাকা

সতর্কতা: ফরেক্স মার্কেটে প্রতি মুহূর্তেই রেট আপডেট হয়। তাই সঠিক হিসাব জানতে গুগল বা কোনো কারেন্সি কনভার্টার অ্যাপ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।

কেন রাশিয়ান রুবলের মান পরিবর্তিত হয়?

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন রাশিয়ার এক টাকা বাংলাদেশের কত এই হিসাবটি সবসময় এক থাকে না? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

১. আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা: রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রুবলের মান মাঝে মাঝে কমে যায়।

২. তেল ও গ্যাসের দাম: রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে রুবলের মানও বৃদ্ধি পায়।

৩. আমদানি-রপ্তানি: বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়লে বা কমলে মুদ্রার বিনিময় হারে প্রভাব পড়ে।

৪. মুদ্রাস্ফীতি: উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির কারণেও টাকার মানে পরিবর্তন আসে।

বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ান রুবল কেনার নিয়ম

আপনি যদি রাশিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে আপনার কাছে রুবল থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রুবল পাওয়া কিছুটা কঠিন হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:

১. মানি এক্সচেঞ্জ থেকে সংগ্রহ

বাংলাদেশের বড় বড় শহর যেমন ঢাকা বা চট্টগ্রামের অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জগুলো থেকে আপনি রুবল কিনতে পারেন। তবে সবসময় রুবল স্টক থাকে না, তাই আগে থেকে যোগাযোগ করে নেওয়া ভালো।

২. ডলার থেকে রুবলে রূপান্তর

সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো বাংলাদেশ থেকে ডলার নিয়ে যাওয়া। রাশিয়ার যেকোনো বিমানবন্দর বা ব্যাংক থেকে খুব সহজেই ডলার দিয়ে রুবল কেনা যায়। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য এটিই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

৩. ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ব্যবহার

আপনার যদি কোনো ব্যাংকের ডুয়াল কারেন্সি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড থাকে, তবে সেটি দিয়ে রাশিয়ার এটিএম বুথ থেকে রুবল উত্তোলন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যাংক কিছু অতিরিক্ত ফি কাটতে পারে।

রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর পদ্ধতি

রাশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীরা প্রায়ই দেশে টাকা পাঠাতে চান। বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতির কারণে প্রথাগত কিছু মাধ্যমে সমস্যা থাকলেও বিকল্প পথ খোলা আছে:

  • ব্যাংক ট্রান্সফার: সরাসরি ব্যাংক টু ব্যাংক ট্রান্সফার করা যায়, তবে এতে সময় বেশি লাগে।
  • অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে: অ্যাডভিক্যাশ (AdvCash) বা অনান্য অনলাইন ওয়ালেটের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করা সম্ভব।
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি (সতর্কতা সাপেক্ষে): অনেকে পিটুপি (P2P) এর মাধ্যমে লেনদেন করেন, যদিও এটি অনেক দেশে আইনগতভাবে জটিল।
  • রেমিট্যান্স হাউস: নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সি বা রেমিট্যান্স হাউসের মাধ্যমে সরাসরি বিকাশ বা ব্যাংকে টাকা পাঠানো যায়।

রাশিয়ার রুবল বনাম অন্যান্য মুদ্রা

বিশ্বের অন্যান্য শক্তিশালী মুদ্রার তুলনায় রুবলের অবস্থান জানতে নিচের তালিকাটি দেখতে পারেন:

  • ১ মার্কিন ডলার = ৯১-৯৫ রুবল (প্রায়)
  • ১ ইউরো = ১০০-১০৫ রুবল (প্রায়)
  • ১ ভারতীয় রুপি = ১.১০ রুবল (প্রায়)

এই তুলনা থেকে বোঝা যায় যে, রাশিয়ার মুদ্রার মান বাংলাদেশি টাকার খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকে।

রাশিয়ান রুবল নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

রাশিয়ার মুদ্রা নিয়ে আমাদের অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। লেনদেনের আগে এই তথ্যগুলো জেনে রাখা জরুরি:

  • রাশিয়ায় সরকারিভাবে শুধুমাত্র রুবলে লেনদেন করা বৈধ। দোকানপাটে ডলার বা অন্য মুদ্রা গ্রহণ করা হয় না।
  • পুরানো বা ছেঁড়া রুবল নোট অনেক সময় এক্সচেঞ্জ করতে সমস্যা হয়, তাই ফ্রেশ নোট নেওয়ার চেষ্টা করুন।
  • রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুবলের মান নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

রাশিয়ার ১ রুবল কি বাংলাদেশের ১ টাকার চেয়ে বেশি?

হ্যাঁ, সাধারণত রাশিয়ার ১ রুবল বাংলাদেশের ১ টাকার চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। গড়ে এটি ১.২০ থেকে ১.৪০ টাকার মধ্যে থাকে।

আমি কি বাংলাদেশে রুবল দিয়ে কেনাকাটা করতে পারব?

না, বাংলাদেশে শুধুমাত্র বাংলাদেশি টাকা (BDT) প্রচলিত। রুবল খরচ করতে হলে আপনাকে আগে ব্যাংকে বা এক্সচেঞ্জ হাউসে গিয়ে তা টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

রাশিয়ার টাকা কি সহজে ডলারে পরিবর্তন করা যায়?

হ্যাঁ, রাশিয়ার ভেতরে প্রায় সব ব্যাংকেই রুবল দিয়ে ডলার কেনা বা ডলার বিক্রি করা যায়।

রাশিয়ার মুদ্রার নাম কী?

রাশিয়ার মুদ্রার নাম হলো রাশিয়ান রুবল (Russian Ruble)।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, রাশিয়ার এক টাকা বাংলাদেশের কত তা নির্ভর করে প্রতিদিনের আন্তর্জাতিক বাজার দরের ওপর। বর্তমানে ১ রুবল সমান প্রায় ১.৩১ টাকা। আপনি যদি ভ্রমণ বা পড়াশোনার কাজে রাশিয়া যেতে চান, তবে বর্তমান রেট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। মুদ্রার রেট প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়, তাই যেকোনো বড় লেনদেনের আগে বিশ্বস্ত কোনো সোর্স থেকে আজকের রেটটি মিলিয়ে নিন। আশা করি এই পোস্টটি আপনার রাশিয়ার মুদ্রা সংক্রান্ত সকল জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে পেরেছে।